স্কুলে ভর্তি : বয়সজনিত জটিলতা এবার সমাধানের পথে

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি নিয়ে যে বয়সসংক্রান্ত জটিলতা বহুদিন ধরে অভিভাবকদের ভোগাচ্ছিল, নতুন সংশোধিত নীতিমালায় সেই সমস্যার অবসান ঘটানো হয়েছে। সর্বশেষ নির্দেশনায় বলা হয়েছে—সরকারি স্কুলে এন্ট্রি শ্রেণি থেকে শুরু করে আসন খালি থাকলে ৯ম শ্রেণি পর্যন্ত যেকোনো শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে।

রাজধানীর নাখালপাড়ার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান এর একটি বাস্তব অভিজ্ঞতা এই সমস্যার চিত্র আরও স্পষ্ট করে। তাঁর মেয়ের জন্ম ২৩ জানুয়ারি ২০১৬। বয়স উপযুক্ত হলেও অনলাইন ভর্তির সফটওয়্যার ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি-পরবর্তী জন্মতারিখ গ্রহণ না করায় তিনি ষষ্ঠ শ্রেণিতে আবেদনই করতে পারেননি। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “মাত্র ২২ দিনের ব্যবধানে আমার সন্তান কোনো সরকারি বা বেসরকারি স্কুলেই আবেদন করার সুযোগ পাচ্ছে না।”

হাবিবুর রহমানই একমাত্র নন—দেশের বিভিন্ন জায়গায় অসংখ্য শিক্ষার্থী একই ধরনের বয়সগত সীমাবদ্ধতার কারণে ভর্তি আবেদন থেকে বাদ পড়েছে। বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নজরে আসে। এরপরই বয়সজনিত এই সমস্যার সমাধান করে নতুন ভর্তি নীতিমালা জারি করা হয়। এতে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির বয়সকে পরবর্তী শ্রেণিগুলোর জন্য ধারাবাহিকভাবে প্রযোজ্য রাখার বিধান বাতিল করা হয়েছে।

রবিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এই সংশোধিত নীতিমালা প্রকাশ করে। আগের সকল নিয়মও এতে বহাল থাকে।

স্কুলে ভর্তি হতে শিক্ষার্থীর বয়সসীমা: নতুন নির্দেশনা

জাতীয় শিক্ষানীতি– ২০১০ অনুযায়ী প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর আদর্শ বয়স ধরা হয়েছে ৬+ বছর। তবে নতুন নীতিমালায় সময়সীমা আরও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে—

  • সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবর্ষের ১ জানুয়ারি তারিখে ন্যূনতম বয়স ৫ বছর হতে হবে।

  • একই বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৭ বছর ধরা হয়েছে।

উদাহরণ:
২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির জন্য—

  • সর্বনিম্ন জন্মতারিখ হতে পারে ১ জানুয়ারি ২০২১ পর্যন্ত

  • সর্বোচ্চ জন্মতারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য হবে।

ভর্তি আবেদন যাচাইয়ের জন্য অনলাইন জন্ম নিবন্ধনের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে। পাশাপাশি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ৫ বছরের বয়সসুবিধা পাবে।