শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে মাদক গ্রহণের অভিযোগ পাওয়া গেলে ডোপ টেস্ট করার বিধান রেখে নতুন ‘জৈব নমুনায় মাদকদ্রব্য শনাক্তকরণ পরীক্ষা (ডোপ টেস্ট) বিধিমালা’ জারি করেছে সরকার। অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ কার্যদিবস সোমবার এ বিধিমালা কার্যকর করা হয়।

বিধিমালার ৬ নম্বর ধারায় ডোপ টেস্টের প্রযোজ্য ক্ষেত্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মাদক গ্রহণের যুক্তিসংগত সন্দেহ সৃষ্টি হলে তার ডোপ টেস্ট করা যাবে। একই সঙ্গে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, স্থানীয় সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নবনিয়োগের সময় এবং কর্মরত অবস্থায় কারও বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগ উঠলেও এ পরীক্ষা গ্রহণ করা যাবে।
এছাড়া গাড়ি ও অন্যান্য যানবাহনের ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান ও নবায়ন, কর্মরত চালকের বিরুদ্ধে সন্দেহ, বিদেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যাওয়া কর্মীদের মাদকাসক্তি যাচাই, আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান ও নবায়ন, স্থল, নৌ ও আকাশযান পরিচালনার লাইসেন্সের ক্ষেত্রেও ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
চিকিৎসকের পেশাগত বিবেচনায় প্রয়োজনে ডোপ টেস্ট করানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি টেকনিক্যাল কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী সরকার নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে নতুন নতুন ক্ষেত্রে এ পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করতে পারবে।
বিধিমালার ৭ নম্বর ধারায় ডোপ টেস্টের আবেদনকারী কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে। উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মাদক গ্রহণের অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধান বা তার অনুরোধে মহাপরিচালক কিংবা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডোপ টেস্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
এছাড়া মহাপরিচালক বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, বিজ্ঞ আদালত, সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারী বা নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ, ট্রাফিক সার্জেন্ট বা সমমর্যাদার কর্মকর্তা এবং সরকারের নির্বাহী আদেশে ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য যে কোনো কর্তৃপক্ষও ডোপ টেস্টের আবেদন করতে পারবে বলে বিধিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।
Leave A Comment