দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনিয়ম বন্ধ, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নতুন নীতিমালা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তিরত শিক্ষার্থীর কাছ থেকে কোনো অবস্থাতেই পুনঃভর্তি ফি নেওয়া যাবে না।

সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নীতিমালা’ প্রকাশ করে এ নির্দেশনা দেয়।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—যেমন স্কুল, স্কুল অ্যান্ড কলেজ, উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ এবং ডিগ্রি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের ক্ষেত্রে শুধু ‘টিউশন ফি নীতিমালা ২০২৪’ অনুযায়ী নির্ধারিত টিউশন ফি গ্রহণ করা যাবে। এর বাইরে নতুন কোনো খাত তৈরি করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা যাবে না।
এছাড়া বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব ধরনের আয়-ব্যয়ের ক্ষেত্রে প্রচলিত সরকারি আর্থিক বিধি-বিধান অনুসরণ করতে হবে। প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব পরিচালিত হবে পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও প্রতিষ্ঠান প্রধানের যৌথ স্বাক্ষরে। একই সঙ্গে তহবিলের আয়-ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণের দায়িত্ব থাকবে প্রতিষ্ঠান প্রধানের ওপর।
নীতিমালায় আরও উল্লেখ করা হয়, পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে কোনো ধরনের আর্থিক অনিয়ম বা দুর্নীতি হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দায়ী থাকবেন। এ ক্ষেত্রে পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও প্রতিষ্ঠান প্রধান যৌথভাবে দায়বদ্ধ থাকবেন এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আয় ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামে তফসিলি ব্যাংকে হিসাব খুলতে হলে সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংককে অগ্রাধিকার দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের প্রদত্ত সব ধরনের ফি, দান-অনুদান এবং সম্পত্তি থেকে অর্জিত আয় নির্ধারিত ব্যাংক হিসাব বা সোনালী পেমেন্ট গেটওয়ে (এসপিজি) কিংবা সরকারি ব্যাংকের অন্যান্য পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হবে।
তবে জরুরি পরিস্থিতি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমতি সাপেক্ষে সাময়িকভাবে নগদ অর্থ গ্রহণ করা যাবে। সে ক্ষেত্রে আদায়কৃত অর্থ দুই কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, আয়-ব্যয়ের খাতে কোনো সংযোজন, বিয়োজন বা পরিবর্তন করতে হলে পূর্বানুমোদন নিতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষা বোর্ড বা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত খাতে আদায়কৃত অর্থ যথাযথ প্রক্রিয়ায় জমা নিশ্চিত করতে হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন এই নীতিমালার মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বাড়বে এবং অতিরিক্ত ও অনিয়মিত ফি আদায়ের প্রবণতা কমবে।

Leave A Comment