প্রিয় প্রাক্তন শিক্ষার্থী, শ্রদ্ধেয় শিক্ষকবৃন্দ, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ী মহল,
আসসালামু আলাইকুম।
আমাদের প্রাণের বিদ্যাপীঠের বহু প্রতীক্ষিত পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানকে সফল ও চিরস্মরণীয় করে তুলতে আয়োজক কমিটি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। শত শত মানুষের ব্যক্তিগত ও পেশাগত ব্যস্ততা সামলে একটি সর্বসম্মত তারিখ নির্ধারণ করা সত্যিই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তারিখ নিয়ে তৈরি হওয়া নানামুখী মতামত ও কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ্ব দূর করতে আমরা একটি অনলাইন জরিপের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
👉 লিংক : https://forms.gle/PqRBgdJe2T5Equ5X9
পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের অনেকের মূল্যবান ও গুরুত্বপূর্ণ মতামত বিশ্লেষণ করলে একটি বিষয় খুব স্পষ্টভাবে সামনে আসে:
মূল সমস্যা তারিখ নয়, মূল সমস্যা হচ্ছে “সর্বাধিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা” এবং “সিদ্ধান্ত গ্রহণে সবার আস্থা তৈরি করা“।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আয়োজক কমিটি যদি সরাসরি কোন একটি তারিখ ঘোষণা করেন, তাহলে যেই তারিখই হোক না কেন, একদল মানুষ অসন্তুষ্ট থাকবেই।
এমতাবস্থায় যৌক্তিক, সর্বোচ্চ সুষ্ঠু ও সুন্দর একটি সমাধানের লক্ষে উক্ত আনুষ্ঠানিক, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ অনলাইন জরিপ (Online Survey) আয়োজন করা হয়েছে।
তার আগে, প্রতিটি সম্ভাব্য তারিখের সুযোগ-সুবিধা এবং বাস্তব অসুবিধাগুলো আমাদের ঠাণ্ডা মাথায় চুলচেরা বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। নিচে একটি বাস্তবসম্মত তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো:
📅 সম্ভাব্য তারিখসমূহের সুবিধা ও অসুবিধা বিশ্লেষণ
| সম্ভাব্য তারিখ/সময় | সুবিধা (Pros) | অসুবিধা (Cons) |
| ২৭ নভেম্বর ২০২৬ | * দেশের সার্বিক রাজনৈতিক ও আবহাওয়াগত পরিস্থিতি এই সময়ে সাধারণত স্থিতিশীল থাকে। | * বছরের শেষ দিক হওয়ায় সন্তানদের বার্ষিক পরীক্ষা থাকে।
* শিক্ষক ও ব্যাংকারদের জন্য পরীক্ষার খাতা দেখা, রেজাল্ট ও ক্লোজিংয়ের অত্যন্ত ব্যস্ত মাস। |
| ১৬/১৭/১৮ ডিসেম্বর ২০২৬ | * টানা সরকারি ছুটি পাওয়া যায়। | * জাতীয় দিবস (১৬ই ডিসেম্বর) উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী ও শিক্ষকদের নিজ নিজ কর্মস্থলে উপস্থিত থাকতে হয়। |
| ২৫ ডিসেম্বর ২০২৬ | * বড়দিনের ছুটি এবং বছরের শেষ দিক। | * মাত্র একদিনের বন্ধে দূর-দূরান্ত থেকে আসা কঠিন।
* ডিসেম্বর মাস জুড়ে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে প্রচণ্ড কাজের চাপ থাকে। |
| ১ জানুয়ারি ২০২৭ | * নতুন বছরের প্রথম দিন, একটা উৎসবমুখর আমেজ থাকে। | * বছরের প্রথম দিনে নতুন ক্লাসের ভর্তি, বই উৎসব এবং দাপ্তরিক নতুন সূচনার কারণে অনেকেরই আসার সুযোগ মিলবে না। |
| জানুয়ারি ২০২৭ (পুরো মাস) | * শীতকালীন চমৎকার আবহাওয়া। | * সন্তানদের নতুন স্কুলে ভর্তি, নতুন সেশনের পড়াশোনা ও বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ইভেন্টের কারণে অভিভাবকরা ব্যস্ত থাকবেন।
* জানুয়ারি ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হতে পারে। |
| ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ | * আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সরকারি ছুটি। | * জাতীয় দিবসে সবাইকে নিজস্ব কর্মস্থলে বা এলাকার অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনায় ব্যস্ত থাকতে হয়, ছুটি পাওয়া কঠিন। |
| ঈদুল ফিতর ২০২৭ (২য়/৩য় দিন) | * চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী—সবাই এই ছুটিতে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরেন। আলাদা করে ছুটির বেগ পেতে হয় না।
* প্রাথমিক পোলে এই সময়ের পক্ষে বড় সমর্থন দেখা গেছে। |
* দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে।
* ঈদের আমেজের মাঝে অন্য বড় আয়োজনের প্রস্তুতি বা বাড়ি ফেরার চড়া যাতায়াত খরচ অনেকের জন্য ঝামেলার হতে পারে। |
| ঈদুল আজহা ২০২৭ | * বড় ছুটি এবং অনেকেই বাড়ি আসেন। | * কোরবানির ব্যস্ততা, পশুর হাট, মাংস বণ্টন এবং আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে যাতায়াতের কারণে পুনর্মিলনীর মতো বড় আয়োজনে সময় দেওয়া কঠিন। |
💡 অনুষ্ঠানের সাফল্য ও সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে কিছু জরুরি কথা
একটি বিশাল আয়োজনে কিছু ভুলত্রুটি বা মতভেদ হওয়া স্বাভাবিক। তবে মনে রাখতে হবে—এখানে কেউ কারো প্রতিদ্বন্দ্বী নই, আমরা সবাই একই পরিবারের সদস্য। বারবার তারিখ পরিবর্তন যেমন আনন্দের জায়গায় ভাটা ফেলে, ঠিক তেমনি গঠনমূলক আলোচনা ছাড়াই তীব্র সমালোচনা আয়োজকদের মনোবল ভেঙে দেয়। আসুন, আমরা ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ভাবি:
- রেজিস্ট্রেশন ফি এবং আমাদের প্রাপ্তি: অনেকেই ভাবছেন ১০০০ টাকা দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে ব্যক্তিগত লাভ কী? আসলে এই আয়োজন থেকে কোনো ব্যক্তিগত লাভের সুযোগ নেই। তবে সামষ্টিক প্রাপ্তি অনেক বড়। রেজিস্ট্রেশনকারী প্রত্যেকেই পাবেন:
১. আকর্ষণীয় স্মরণী টি-শার্ট ও ক্যাপ।
২. প্রোগ্রামের লোগো সম্বলিত গিফট সামগ্রী।
৩. সবার ছবি, নাম ও পরিচয়সহ একটি সমৃদ্ধ সুভেনিয়র (ম্যাগাজিন বই), যা আজীবন স্মৃতির দলিল হয়ে থাকবে।
৪. মানসম্মত মধ্যাহ্নভোজ/নৈশভোজ এবং দিনব্যাপী স্মৃতিচারণ ও জমকালো সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা।
- এটি শুধু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়: এটি একটি দিনব্যাপী মিলনমেলা। সকালে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা, স্কুল মাঠে ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা, আড্ডা এবং হারিয়ে যাওয়া শৈশবে ফিরে যাওয়ার এক অপূর্ব সুযোগ।
- সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়বদ্ধতা: এই পুনর্মিলনীর মাধ্যমে আমরা একটি “দরিদ্র তহবিল“ গঠন করতে পারি, যা থেকে প্রতি মাসে আমাদের স্কুলের মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা যাবে। এছাড়া দেশ-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত প্রাক্তন ছাত্রদের সাথে বর্তমান ছাত্রদের একটি নেটওয়ার্ক তৈরি হবে, যা ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানে বড় ভূমিকা রাখবে।
🗳️ আপনার মূল্যবান মতামত দিন (অনলাইন জরিপ)
আমরা কাদা ছোড়াছুড়ি বা নেতিবাচক মন্তব্য করে আমাদের প্রিয় বিদ্যাপীঠের সম্মান ক্ষুণ্ন করতে চাই না। সিনিয়র-জুনিয়র কিংবা ঢাকা বনাম স্থানীয়—এমন কোনো বিভেদ যেন আমাদের স্পর্শ না করে। দূর বা কাছে যেখানেই থাকি না কেন, স্কুল আমাদের আবেগের জায়গা।
গণতান্ত্রিক ও যৌক্তিক উপায়ে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষ্যে আমরা এই জরিপের আয়োজন করেছি। নিচে দেওয়া লিংকে ক্লিক করে আপনার জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক তারিখটিতে ভোট দিন।
👉 লিংক : https://forms.gle/PqRBgdJe2T5Equ5X9
আয়োজক কমিটির প্রতি বিনীত অনুরোধ, আপনারা এই গণমতকে সম্মান জানিয়ে সার্বিক দিক বিবেচনা করে একটি চূড়ান্ত ও সর্বজনীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমাদের পুনর্মিলনী সফল ও চিরস্মরণীয় হোক।
ধন্যবাদান্তে,
প্রাক্তন শিক্ষার্থীবৃন্দ
Leave A Comment