শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নগদ অর্থ গ্রহণ সম্পূর্ণভাবে বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। এখন থেকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সব ধরনের ফি ও সেশন চার্জ নির্ধারিত ব্যাংক হিসাব কিংবা পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে আদায় করতে হবে।

সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নীতিমালা’ জারি করে এ সিদ্ধান্ত জানায়। নীতিমালায় বলা হয়েছে, অনতিবিলম্বে সোনালী পেমেন্ট গেটওয়ে (এসপিজি) অথবা সরকারি মালিকানাধীন অন্যান্য ব্যাংকের পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন নিশ্চিত করতে হবে। অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর কোনো অবস্থাতেই নগদ অর্থ গ্রহণ করা যাবে না।

Saifoddowla Teacher

নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব ধরনের আয় নির্ধারিত ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হবে, ফলে আয় গোপনের সুযোগ থাকবে না। একই সঙ্গে ব্যয়ের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলকভাবে ই-ক্যাশবুক ব্যবহার করতে হবে, যাতে ব্যাকডেট ভাউচার বা হিসাব জালিয়াতির ঝুঁকি কমে।

তবে জরুরি পরিস্থিতি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সাময়িকভাবে নগদ অর্থ গ্রহণ করা যাবে। সেক্ষেত্রে আদায়কৃত অর্থ দুই কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা দিতে হবে।

নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, ব্যয়ের ক্ষেত্রে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী সরকারি ভ্যাট ও ট্যাক্স পরিশোধ বাধ্যতামূলক। আয়-ব্যয়ের খাতে কোনো সংযোজন বা পরিবর্তন করতে হলে মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমোদন নিতে হবে। শিক্ষা বোর্ড বা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত খাতে আদায়কৃত অর্থ যথাযথ প্রক্রিয়ায় জমা দিতে হবে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো শিক্ষার্থীর কাছ থেকে পুনঃভর্তি ফি নেওয়া যাবে না। তবে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ‘টিউশন ফি নীতিমালা ২০২৪’ অনুসরণ করে টিউশন ফি গ্রহণ করতে পারবে।

ব্যয় ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে পরিচালনা কমিটিকে সংশ্লিষ্ট প্রবিধানমালা ও প্রশাসনিক নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায়কৃত অর্থ নির্ধারিত খাত ছাড়া অন্য খাতে ব্যয় করা যাবে না। বিশেষ প্রয়োজনে পরিচালনা কমিটির অনুমোদনে অব্যয়িত অর্থ বা ব্যাংকের লভ্যাংশ প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কল্যাণে ব্যয় করা যাবে।

ইমপ্রেস্ট ফান্ড ব্যবস্থাপনায় বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠান প্রধান মাসিক চাহিদাপত্র দাখিল করবেন এবং পূর্ববর্তী বিল-ভাউচারসহ হিসাব উপস্থাপন করবেন। অর্থ উপকমিটির সুপারিশ ও পরিচালনা কমিটির অনুমোদনের পর অর্থ ছাড় করা যাবে। ইমপ্রেস্ট ফান্ডের সীমা হবে এক মাসের সর্বোচ্চ নগদ ক্রয়ের পরিমাণ।

নীতিমালা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধান ও দায়িত্বরত শিক্ষক ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন। এ ধরনের লঙ্ঘন অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে এবং প্রয়োজনে বরখাস্ত, এমপিও স্থগিত বা পরিচালনা কমিটি বাতিলসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নগদ লেনদেন বন্ধ করে ডিজিটাল ব্যবস্থায় অর্থ আদায় ও ব্যয় পরিচালনার ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

Amar Deal 01711353363