২০২৭ শিক্ষাবর্ষে স্কুল ভর্তি নীতিতে বড় পরিবর্তন: প্রথম শ্রেণিতে Lottery, দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে পরীক্ষা
আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভর্তি পদ্ধতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম লটারির মাধ্যমে পরিচালিত হবে, তবে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে পরীক্ষার মাধ্যমে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা সর্বশেষ নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা লটারিভিত্তিক ভর্তি পদ্ধতি পুনর্বিবেচনা করে অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে নতুন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের ওপর অতিরিক্ত মানসিক চাপ, কোচিংনির্ভরতা এবং বৈষম্যের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রথম শ্রেণির জন্য লটারি পদ্ধতি বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রথম শ্রেণিতে লটারির সিদ্ধান্ত
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রথম শ্রেণিতে কোনো ধরনের ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না। অভিভাবক, শিক্ষাবিদ এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলের মতামত বিবেচনা করে শিশুদের জন্য সহজ ও চাপমুক্ত ভর্তি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে ছোট শিশুদের ওপর পরীক্ষার মানসিক চাপ কমবে এবং আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের সন্তানরাও সমান সুযোগ পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা
প্রথম শ্রেণির বাইরে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি কার্যক্রম পরীক্ষার মাধ্যমে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে পরীক্ষার ধরন, প্রশ্নের কাঠামো, মূল্যায়ন পদ্ধতি ও নম্বর বণ্টন সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়নি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষাগুলো সহজ ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে পরিচালনার বিষয়ে আলোচনা চলছে, যাতে শিক্ষার্থীরা অপ্রয়োজনীয় চাপের মুখে না পড়ে।
আগের সিদ্ধান্ত ও নতুন পরিবর্তন
এর আগে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত সব শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা চালুর পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছিল। কিন্তু শিক্ষাবিদ, অভিভাবক ও বিভিন্ন মহলের আপত্তির পর সেই সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনা হয়।
বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত লটারির মাধ্যমে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই লটারিভিত্তিক পদ্ধতি পরিবর্তন করে নতুন ভর্তি কাঠামো প্রণয়ন করা হবে।
এ কারণে পূর্বে জারি করা সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভর্তি-সংক্রান্ত দুটি নীতিমালার কার্যকারিতাও স্থগিত করা হয়েছে।
কেন চালু হয়েছিল লটারিভিত্তিক ভর্তি?
২০১১ শিক্ষাবর্ষে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে ভর্তি বাধ্যতামূলক করা হয়। পরে বেসরকারি বিদ্যালয়েও একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।
শিশুদের ওপর ভর্তি পরীক্ষার অতিরিক্ত চাপ, কোচিং বাণিজ্যের বিস্তার, প্রশ্নফাঁসের ঝুঁকি এবং স্বজনপ্রীতির অভিযোগ কমানোর লক্ষ্যেই লটারি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে ২০২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত সব শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।
শিক্ষাবিদদের মতামত
অনেক শিক্ষাবিদ মনে করেন, শিশুদের জন্য ভর্তি পরীক্ষা বৈষম্য তৈরি করতে পারে। তাদের মতে, কোচিং ও প্রাইভেট নির্ভর শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় বাড়তি সুবিধা পেতে পারে, ফলে আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের শিশুরা পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।
এছাড়া, ছোট বয়সে অতিরিক্ত প্রতিযোগিতা শিশুদের মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
নতুন ব্যবস্থার লক্ষ্য
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের লক্ষ্য হলো—একদিকে শিশুদের জন্য চাপমুক্ত ভর্তি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, অন্যদিকে উচ্চ শ্রেণিগুলোতে শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা ও সক্ষমতা মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি করা। অংশীজনদের মতামত নিয়ে আগামী দিনে আরও স্বচ্ছ, ন্যায়সঙ্গত ও কার্যকর ভর্তি নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
Leave A Comment