স্কুল ভর্তিতে বড় বদল, লটারি বাদ দিয়ে এবার পরীক্ষা School Admission 2027— কোন বিষয়ে কত নম্বর?
ছয় বছর পর আবারও স্কুলে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি। প্রথম শ্রেণি বাদে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য বদলে যেতে পারে ভর্তি পদ্ধতি। লটারির পরিবর্তে ১০০ নম্বরের পরীক্ষায় যাচাই করা হবে মেধা। বাংলা, ইংরেজি ও গণিতে হবে এই পরীক্ষা। তবে নতুন নিয়ম এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

স্কুলে ভর্তি নিয়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে সরকার। দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ করে পরীক্ষার ভিত্তিতে ভর্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নবম পে-স্কেল ২০২৬ -এ অনলাইনেই বেতন নির্ধারণ:
iBAS++-এ দিতে হবে যেসব তথ্য, কে কত পাবেন?
এ জন্য নতুন একটি খসড়া ভর্তি নীতিমালা তৈরির কাজ করছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। সবকিছু ঠিক থাকলে খসড়াটি আগামী সপ্তাহে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হতে পারে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পরই জানা যাবে চূড়ান্ত নিয়ম।
১০০ নম্বরের পরীক্ষায় কার কত নম্বর?
প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে।
পরীক্ষায় থাকবে মাত্র তিনটি বিষয়। এর মধ্যে—
বাংলা — ৩০ নম্বর
ইংরেজি — ৩০ নম্বর
গণিত — ৪০ নম্বর
অর্থাৎ ভর্তি পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে গণিতকে। তিন বিষয়ের মোট নম্বরের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মেধাক্রম তৈরি করা হবে। এরপর সেই মেধাতালিকা অনুসারেই বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হবে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: এখনো চূড়ান্ত নয়
নতুন নিয়ম নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে আগ্রহ থাকলেও একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—এটি এখনো চূড়ান্ত নীতিমালা নয়।
মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানিয়েছেন, খসড়া নীতিমালা প্রস্তুত করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। অনুমোদনের পরই আনুষ্ঠানিকভাবে নীতিমালা প্রকাশ করা হবে।
অর্থাৎ বর্তমানে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা এবং তিন বিষয়ের যে কাঠামো সামনে এসেছে, তা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর চূড়ান্ত রূপ পাবে।
লটারি বাতিল নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
লটারি বাদ দিয়ে ভর্তি পরীক্ষা ফেরানোর উদ্যোগ নিয়ে ইতোমধ্যে অভিভাবকদের মধ্যে দুই ধরনের মত তৈরি হয়েছে।
কেউ মনে করছেন, লটারির পদ্ধতিই ভালো ছিল। আবার কেউ মনে করছেন, শিক্ষার্থীর মেধা যাচাই করে ভর্তি নেওয়ার জন্য পরীক্ষাই বেশি কার্যকর।
অভিভাবকদের একটি অংশ অবশ্য প্রাথমিক শ্রেণিতে লটারি বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লটারি রাখা যেতে পারে। সেটি সম্ভব না হলে অন্তত তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত লটারি রেখে পরবর্তী শ্রেণিগুলোতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া যেতে পারে।
সফল হওয়ার সম্পূর্ণ গাইড
কেন আপত্তি শিক্ষাবিদদের?
ভর্তি পরীক্ষা চালুর উদ্যোগকে ঘিরে শিক্ষাবিদদের একটি অংশ আবার উদ্বেগের কথাও জানিয়েছেন।
তাদের আশঙ্কা, পরীক্ষা ফিরলে ভর্তি ঘিরে দুর্নীতি ও অনিয়ম বাড়তে পারে। শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির নামে কোচিং বাণিজ্যও নতুন করে জমে উঠতে পারে।
কোমলমতি শিশুদের ওপর পরীক্ষার চাপ তৈরি হলে তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হতে পারে বলেও মনে করছেন শিক্ষাবিদরা।
এর সঙ্গে রয়েছে শিক্ষা ক্ষেত্রে বৈষম্য বাড়ার আশঙ্কা। তাদের মতে, সিটি করপোরেশনের নামি-দামি বিদ্যালয়গুলোতে ধনী পরিবারের সন্তানদের ভিড় বাড়তে পারে। বিপরীতে দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের কম সুযোগ-সুবিধার বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে বাধ্য হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
‘পরীক্ষা বা লটারি দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান মনে করেন, লটারি কিংবা ভর্তি পরীক্ষা—কোনোটিই বিদ্যালয়ে ভর্তির মূল সংকটের স্থায়ী সমাধান নয়।
দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের বাড়ির কাছাকাছি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মান বাড়াতে হবে। সব বিদ্যালয়কে একটি নির্দিষ্ট মানে নিয়ে আসতে হবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী রেশিও ঠিক করার পাশাপাশি মানসম্মত শ্রেণিকক্ষ নিশ্চিত করাও জরুরি।
তার মতে, বাড়ির পাশের বিদ্যালয়ের মান ভালো হলে শিক্ষার্থীদের দূরের নামকরা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার জন্য ছুটতে হবে না।
‘মন্ত্রী-আমলাদের সন্তানদের স্থানীয় স্কুলে ভর্তি করা উচিত’
অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমানের মতে, মন্ত্রী, আমলা ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সন্তানদের তাদের বাড়ির কাছাকাছি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে।
এতে ওই বিদ্যালয়গুলোর মান দ্রুত উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রকৃত সমস্যার জায়গায় না গিয়ে শুধু ভর্তি পরীক্ষা বা লটারি নিয়ে চিন্তা করা হচ্ছে। এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত ও অবকাঠামোর মতো মৌলিক বিষয়গুলোর দিকে নজর দেওয়ার সময় এসেছে।
কীভাবে এল লটারি পদ্ধতি?
বিদ্যালয়ে লটারির মাধ্যমে ভর্তি একদিনে চালু হয়নি। ২০১১ সাল থেকে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর যেসব প্রতিষ্ঠানে প্রথম শ্রেণি রয়েছে, সেখানে ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে লটারির মাধ্যমে ভর্তি বাধ্যতামূলক করা হয়।
২০১২ সালে বেসরকারি বিদ্যালয়েও একই পদ্ধতি চালু করা হয়।
তবে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে তখনো ভর্তি পরীক্ষা চালু ছিল। পরে করোনা সংক্রমণের কারণে ২০২০ শিক্ষাবর্ষ থেকে সব শ্রেণিতেই লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়।
এরপর থেকে সরকারি-বেসরকারি বিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রমে লটারিই অনুসরণ করা হচ্ছে।
এবার কী হতে যাচ্ছে?
প্রস্তাবিত নতুন নীতিমালা অনুমোদিত হলে প্রথম শ্রেণির ক্ষেত্রে লটারি থাকলেও দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ভর্তি হতে হবে পরীক্ষার মাধ্যমে।
তিন বিষয়ের এই পরীক্ষায় মোট নম্বর থাকবে ১০০। বাংলা ও ইংরেজিতে ৩০ নম্বর করে এবং গণিতে ৪০ নম্বর থাকবে।
এরপর পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে তৈরি হবে মেধাতালিকা। আর সেই তালিকাই নির্ধারণ করবে কোন শিক্ষার্থী সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবে।
তবে শেষ কথা বলবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন।
Leave A Comment